চুই ঝাল, বা চই ঝাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Piper chaba) হচ্ছে পিপারাসি পরিবারের সপুষ্পক লতা। পান ও চুই ঝাল একই পরিবারের, চুই ঝাল গাছ দেখতে অনেকটা পানের লতার মতো। পাতা কিছুটা লম্বা ও পুরু তবে পানের মতো এর পাতায় ঝাল নেই। চুই ঝাল গাছের কাণ্ড বা লতা কেটে ছোট টুকরো করে মাছ-মাংস রান্নায় ব্যবহার করা হয়। রান্নার পর এই টুকরো চুই ঝাল চুষে বা চিবিয়ে খাওয়া হয়। চুইয়ের ঝাল মরিচের স্বাদের মতো হলেও চুইয়ের নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ আছে। চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস অসাধারণ খেতে আপনি জীবনে একবার হলেও ট্রাই করে দেখতে পারেন।
কোন কোন দেশে জন্মেঃ
চুই ঝাল বা চই ঝাল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় প্রজাতি। এটি গোটা ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য উষ্ণ এলাকাসহ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিংগাপুর ও শ্রীলংকায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশের খুলনা,বাগেরহাট, নড়াইল, যশোর ও সাতক্ষীরায় এই ঝাল গাছ ভালো জন্মে।
চাষ পদ্ধতিঃ
উঁচু জায়গায় চুইঝালগাছ ভালো হয়। গোড়ায় পানি জমলে গাছ পচে যায়। গাছে ফুল-ফল হয়। বীজ থেকে চারাও হয়। তবে শিকড়সহ গিঁট কেটে লাগালে সহজে চারা হয়।
রান্নার জন্যে টুকরো করা চুইঃ
যেহেতু গাছটির কাণ্ড বা লতা মসলা হিসেবে ব্যবহার হয়। খুলনা অঞ্চলে চুইঝালকে মসলা হিসেবে ব্যবহার করে চুইঝালের মাংস রান্না করা হয়। রান্নায় এর ঝাল খাবারের স্বাদ বাড়ায় আবার শরীরেরও কোনো ক্ষতি করে না। ঝোল জাতীয় মাছ-মাংস সব কিছুতেই স্বাদ তৈরি করে। এদের কাণ্ড, শিকড়, পাতা, ফুল, ফলের ঔষধি গুণ আছে। বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং নড়াইল এলাকায় এই চুইঝাল মসলা হিসেবে খুব জনপ্রিয়। তবে রান্নার সময় খেয়াল রাখবেন মরিচ গুঁড়ো কম করে দেবেন যেহেতু চুই ঝাল থেকে কিছুটা ঝাল বের হয়ে আসবে।
রাসায়নিক উপাদানঃ
চুইঝালে দশমিক ৭ শতাংশ সুগন্ধি তেল, ৫ শতাংশ অ্যালকালয়েড ও পিপালারটিন আছে ৫ শতাংশ ও ৪ থেকে ৫ শতাংশ পোপিরন থাকে। এছাড়া পোলার্টিন, গ্লাইকোসাইডস, মিউসিলেজ, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সিজামিন, পিপলাসটেরল থাকে। এর কাণ্ড, শিকড়, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদি ভেষজগুণ সম্পন্ন। শিকড়ে থাকে দশমিক ১৩ থেকে দশমিক ১৫ শতাংশ পিপারিন।
চুইঝালের ঔষধিগুণ আছেঃ
(১) গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে;
(২) খাবারের রুচি বাড়াতে এবং ক্ষুধামন্দা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে;
(৩) পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ সারাতে চুইঝাল অনেক উপকারী;
(৪) স্নায়ুবিক উত্তেজনা ও মানসিক অস্থিরতা প্রশমন করে;
(৫) ঘুমের ওষুধ হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে এবং শরীরের ব্যথা সারায়;
(৬) সদ্য প্রসূতি মায়েদের শরীরের ব্যথা দ্রুত কমাতে ম্যাজিকের মতো সাহায্য করে;
(৭) কাশি, কফ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও রক্তস্বল্পতা দূর করে;
(৮) এক ইঞ্চি পরিমাণ চুই লতার সাথে আদা পিষে খেলে সর্দি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
তাই যারা জীবনে এটি খাননি তারা ট্রাই করে দেখতে পারেন।



